প্রশ্ন: আমার উচ্চতা ১৫৯ সেন্টিমিটার। ওজন ৬৭ কেজি। পেটের মেদ বেড়ে গেছে অনেকটা। আমি ওজন ও মেদ কমানোর জন্য চিকিৎসক দেখিয়েছিলাম। তিনি আমাকে রোভাস্ট ৫ ট্যাবলেট প্রতিদিন একটা করে দুই মাস খেতে দিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে প্রতিদিন দুবার দুই ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি করতে বলেছিলেন। সকালে আধা প্লেট ভাত, দুপুরে এক প্লেট, রাতে দুটি রুটি খেতে বলেছিলেন। কিন্তু আমার ওজন ও মেদ কমছে না। এখন আমি ওজন ও পেটের মেদ কমানোর জন্য কী করতে পারি? ইউটিউব থেকে একজন জনপ্রিয় চিকিৎসকের ভিডিও দেখে ওয়াটার ফাস্টিং ডায়েট করছি, এতে কি শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে?

বিপ্লব

উত্তর: প্রথমত, ট্যাবলেট রোভাস্ট কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ, মেদ কমানোর নয়। দ্বিতীয়ত, আপনি যে ওয়াটার ফাস্টিং ডায়েট করছেন, তার ভালো থেকে খারাপ দিকই বেশি। কারণ, ওয়াটার ফাস্টিং একটা ইনটার্মিটেন্ট ফাস্টিং ধরনের ডায়েট। যখন সর্বোচ্চ তিন দিন শুধু পানি ছাড়া অন্য কোনো খাবার গ্রহণ করা যায় না এবং পরের তিন দিন পোস্ট ফাস্ট (না খেয়ে থাকার পরবর্তী অবস্থা) নিয়মে চলতে হয়। তবে এটা কখনো কখনো শরীরের ‘অটোফেজি’ প্রক্রিয়া, উচ্চ রক্তচাপ কমাতে, কিছু ক্যানসার, হৃদ্‌রোগের ব্যবস্থাপনায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য করা হয়ে থাকে, তাই এই পদ্ধতি কোনো সুস্থ মানুষের জন্য নয়। যদি কেউ এটা করেন, তাঁর যেসব সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে, সেসবের মধ্যে আছে—

  • ইটিং ডিজঅর্ডার (খাবারে অনীহা) হয়ে বুলিমিয়া রোগ।
  • মাথাব্যথা, মাথা ঘোরানো, এমনকি রক্তচাপ কমে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন।
  • রক্তে ইউরিক অ্যাসিড তৈরির হার বেড়ে গিয়ে গেঁটে বাত, ব্যথা হতে পারে।
  • ডায়াবেটিসের রোগীদের বিভিন্ন জটিলতা বাড়বে। বিশেষ করে হাইপোগ্লাইসিমিয়া হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আরও অনেক কিছু।

    নিজেই চিন্তা করে দেখেন, যেখানে একজন মানুষের শরীরে প্রতিদিন (এমনকি ঘুমিয়ে থাকলেও) প্রতিটি পুষ্টি একান্ত প্রয়োজন, সেখানে টানা খাবার না খেয়ে থাকা কতটা যৌক্তিক? এবার আসি আপনার মেদ কমানোর ব্যাপারে।

  • একবারে বেশি না খেয়ে, ভাগ ভাগ করে (আগে যা তিনবারে খেয়েছেন, তা এখন ছয়-সাতবারে) খাবার খাবেন।
  • খাবার ধীর ধীরে ভালো করে চিবিয়ে খাবেন।
  • খাবার খাওয়ার মধ্যে পানি পান না করে খাওয়ার কমপক্ষে ৩০ মিনিট পর পানি পান করবেন।
  • খাওয়ার পরপরই শুয়ে বা বসে না থেকে ৩০ মিনিট হাঁটাচলা করুন।
  • বিশেষ করে রাতের খাবার ঘুমানোর কমপক্ষে তিন-চার ঘণ্টা আগে খাবেন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার আগপর্যন্ত শুয়ে না থেকে হাঁটাচলা করবেন।
  • রাতে জেগে মুঠোফোন বা টিভি না দেখে কমপক্ষে ছয় ঘণ্টা ঘুম অপরিহার্য।
  • প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০-৪০ মিনিট ব্যায়াম করুন।

মনে রাখবেন, শরীরের সুস্থতা আগে, তারপর অন্য কিছু। ওজন রাতারাতি বাড়েনি, তাই খুব দ্রুত ও ম্যাজিক পদ্ধতিতে (যা দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে অমিল) তা কমানোর চেষ্টা না করে সময় নিয়ে কমান, তাহলে আবার ওজন বাড়বে না। নিজের শরীর নিয়ে নিরীক্ষা করবেন না।