স্বাস্থ্যবিধি মেনে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস পালিত
১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তিন প্রতিষ্ঠানকে ‘সার্টিফিকেট অভ্ মেরিট’ প্রদান
ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি ২০২১ :
আন্তর্জাতিক কাস্টমস্ দিবস। প্রতিবছর ২৬ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন (ডব্লিউসিও) – এর সদস্যভুক্ত বাংলাদেশসহ ১৮৩টি দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবার কাস্টমস দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘Customs Bolstering Recovery, Renewal and Resilience for a sustainable supply chain’। অর্থাৎ করোনাকবলিত বৈশ্বিক অর্থনীতির পুর্নগঠন, নব উদ্যম ও টিকে থাকার প্রয়াসে শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা বিনির্মাণে কাস্টমসের গুরুত্ব আলোকপাত করা হয়েছে। করোনা মহামারির কারণে এবার সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকাসহ সারা দেশে কাস্টমস হাউসে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।
দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর সম্মেলন কক্ষে কাস্টমস দিবস বিষয়ে একটি ভার্চুয়াল সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোঃ রহমাতুল মুনিম এতে সভাপতিত্ব করেন।
আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসে এবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও এর অধীনস্থ দপ্তরসমূহের ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ‘সার্টিফিকেট অভ্ মেরিট’ সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে। বিশেষ করে করোনা মহামারির মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ‘সাপ্লাই চেইন’ সচল রাখার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রতিষ্ঠানকে সনদ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া কাস্টমসের বাইরে মহামারি মোকাবিলায় ফ্রন্টলাইনে থাকা একটি প্রতিষ্ঠানকে ‘সার্টিফিকেট অভ্ মেরিট’ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
সেমিনারে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালন করতে গিয়ে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্মরণ করা হয় এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের World Customs Organization (WCO) Certificate of Merit সম্মাননা (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বায়নের এ যুগে কাস্টমসের ভূমিকা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন পরিবর্তন, পরিবর্ধনের মধ্য দিয়ে আধুনিক কাস্টমস রাজস্ব আহরণের পাশাপাশি বর্তমানে বৈধ বাণিজ্যে সহায়তা করা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিধান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, পরিবেশ সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বিধানসহ ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে। কাস্টমস ব্যবসায়ীদের চাহিদা পূরণ করলে একদিকে রাজস্ব বাড়বে, অন্যদিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সুনাম অর্জন করবে। ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনে কাস্টমসকে আরো আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারলে রাজস্ব আহরণ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।